ডাঃ ফারহানা মোবিন: মুখে দুর্গন্ধ হওয়া একধরনের অসুখ। বিভিন্ন কারণে মুখে দুর্গন্ধ হয়। অনেক সময় কোনো অসুখের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। আর মুখের এ দুর্গন্ধের কারণে অন্যের কাছে ব্যক্ত্যিত্ব যেমন ম্লান হয়, আবার এ কারণে মানসিকভাবেও ভেঙ্গে পড়েন অনেকেই৷ অথচ বাড়তি কিছু সচেতনতা ও অভ্যাস আপনাকে দেবে দুর্গন্ধহীন মুখ৷ বাড়িয়ে তুলবে
আত্ম বিশ্বাস।
মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ:
১. নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করা। এর ফলে দাঁতের গোড়া, মাড়ি ও মুখের কোনায় খাদ্যকণা থেকে যায়। আর আমাদের মুখে খুব দ্রুত বাসা বাধে ব্যাকটেরিয়া। ব্যাকটেরিয়া হলো এক ধরনের অণুজীব। যা দ্রুত মুখের কোণেতে জমে থাকা খাবারগুলোকে পঁচিয়ে ফেলে, গলিয়ে দেয়। পরিণামে মুখে বাসা বাধে রোগ জীবাণু এবং ছড়ায় দুর্গন্ধ ।
২. খাবার ঠিক মতো হজম না হওয়া, সঠিক সময় খাদ্যাভ্যাসের অভাব, অতিরিক্ত এ্যাসিডিটির সমস্যা, গভীর রাত জেগে কাজ করা, পানি ঠিক মতো পান না করা, পান-সুপারি-জর্দ্দা, তামাক পাতা খাওয়া- এই অভ্যাসগুলোর জন্য মুখে দুর্গন্ধ হয়।
৩. গর্ভাবস্থা (কিছু সংখ্যক মায়েদের হয়), কেমোথেরাপী বা কিছু কিছু মানসিক রোগের ওষুধ বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখে গন্ধ হয়। পেয়াজ, রসুন, জর্দা, মাদকদ্রব্য, ধূমপান, বিড়ি, চুরুট, মুখের দুর্গন্ধ বাড়ায়। যে কোন
মাদকদ্রব্য দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তখন দাঁত, দাঁতের মাড়িও দুর্বল হয়ে যায়। দুর্বল হয়ে যাবার জন্য নানান রকম রোগ জীবানু দ্রুত আক্রমণ করে। পরিণামে মুখে দুর্গন্ধ হয়।
৪. মুখের লালাগ্রন্থি থেকে এক ধরনের লালা বের হয়। এই লালাগুলো মুখের শুষ্কভাব দূর করে। মুখকে রাখে রোগ জীবানুমুক্ত। অনেকের মুখ এমনিতেই শুষ্ক থাকে। শুষ্ক মুখে দ্রুত অণুজীব বড় হয়। তখন রোগ জীবাণু আক্রমণের জন্য মুখের অসুখ হয়। কথা বলার সময় গন্ধ ছড়ায়৷
৫. জিহ্বাতে ময়লা জমে দৃষ্টিকটু দেখায়। নানান রকম রোগজীবাণু আর খাদ্যকণাতে জিহ্বার বর্ণও পরিবর্তিত হয়। তখন জিহ্বার সাদাটে ভাব বোঝা যায়। যা দৃষ্টি কটু এবং সাথে গন্ধও ছড়ায়।
৬. টাকা বাঁচানোর জন্য মানহীন প্রসাধনী থেকেও মুখে গন্ধ হতে পারে। বাহির থেকে যা খুব বিশ্রী দেখায়। ঠিকমতো ঠোটের মেকাপ না উঠালে, প্রসাধনী জমে ঠোটের কোণাতে রোগ জীবানু বাসা বাঁধবে, এতে গন্ধ ছড়াবে।
৭. অতিরিক্ত তেল, চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার পরে দাঁতের কোণায় লেগে থাকতে পারে। সঠিকভাবে দাঁত পরিষ্কার না করলে, এই খাবার কণাগুলো লেগে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
৪. ব্রাশ ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে বা বছর যাবৎ এই ব্রাশ ব্যবহার করলেও মুখে রোগ-জীবাণু আক্রমণ করে দুর্গন্ধ হয়।
মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে করণীয়: ১. নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করতে হবে। তৈলাক্ত, চর্বি জাতীয় খাবার, মিষ্টি খাওয়ার পরে ভালো করে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। মাউথ ওয়াশ বা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে মাঝে মাঝে কুলি করলে মুখের রোগ জীবাণুগুলো মরে যাবে।
তখন দুর্গন্ধ হবে কম। নিয়মিত দাঁত ব্রাশের সাথে জিহ্বাও পরিষ্কার করতে হবে।
২. নিয়মিত প্রতিদিন দুই লিটার পানি পান করুন। শুধু কিডনীর জটিলতায় যারা ভুগছেন, তারা খেয়াল রাখুন যে, চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত পানি পান করা যাবে না। কারণ কিডনীর জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের কিডনীর অবস্থা বুঝে পানি পান করতে হয়।
৩. নিয়মিত ছয় মাস পর পর বা সম্ভব না হলে এক বছর পর পর দাঁতের স্কেলিং করান। এতে বাকা দাঁত যাদের, তারা আরো বেশি উপকৃত হবেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ডায়াবেটিক রোগীদের দেহের সব অঙ্গগুলো দূর্বল হয়ে যায়। তখন দাঁতের ক্যালসিয়াম কমে, দাঁতের গোড়াতে খুব সহজেই রোগ জীবাণু বাসা বাধে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৪. গর্ভাবস্থা, বড় কোন অপারেশনের পরে, বৃদ্ধ বয়সে বা মেনোপোজ হবার পরে দাঁতের প্রতি মনোযোগী হউন। তাহলে মুখের দুর্গন্ধ কমবে।
৫. ঠোটে প্রসাধনী ঠিকমত পরিষ্কার করবেন ঘুমাতে যাবার পূর্বে৷ পেটের কোন অসুখ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৬. মুখে বাঁধানো দাঁত থাকলে তার প্রতি যথেষ্ট মনোযোগী হউন।
৭. দাঁত বা মাড়ির কোন অসুখকে অবহেলা করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সাদা রং এর টুথপেষ্টে ফ্লুরাইড থাকে প্রচুর পরিমাণে। এই ধরনের টুথপেষ্ট দাঁতের জন্য বিশেষ উপযোগী।
৮. যেকোন ধনের মাদক দ্রব্য, ধূমপান, গুল পরিহার করুন।
দুর্গন্ধহীন মুখে ছড়াক সুন্দর নিঃশ্বাস। হয়ে উঠুন আরো বেশি ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন৷
লেখিকা: ডাঃ ফারহানা মোবিন
রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার, স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি বিদ্যা বিভাগ,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ।
মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ:
১. নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করা। এর ফলে দাঁতের গোড়া, মাড়ি ও মুখের কোনায় খাদ্যকণা থেকে যায়। আর আমাদের মুখে খুব দ্রুত বাসা বাধে ব্যাকটেরিয়া। ব্যাকটেরিয়া হলো এক ধরনের অণুজীব। যা দ্রুত মুখের কোণেতে জমে থাকা খাবারগুলোকে পঁচিয়ে ফেলে, গলিয়ে দেয়। পরিণামে মুখে বাসা বাধে রোগ জীবাণু এবং ছড়ায় দুর্গন্ধ ।
২. খাবার ঠিক মতো হজম না হওয়া, সঠিক সময় খাদ্যাভ্যাসের অভাব, অতিরিক্ত এ্যাসিডিটির সমস্যা, গভীর রাত জেগে কাজ করা, পানি ঠিক মতো পান না করা, পান-সুপারি-জর্দ্দা, তামাক পাতা খাওয়া- এই অভ্যাসগুলোর জন্য মুখে দুর্গন্ধ হয়।
৩. গর্ভাবস্থা (কিছু সংখ্যক মায়েদের হয়), কেমোথেরাপী বা কিছু কিছু মানসিক রোগের ওষুধ বা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখে গন্ধ হয়। পেয়াজ, রসুন, জর্দা, মাদকদ্রব্য, ধূমপান, বিড়ি, চুরুট, মুখের দুর্গন্ধ বাড়ায়। যে কোন

৪. মুখের লালাগ্রন্থি থেকে এক ধরনের লালা বের হয়। এই লালাগুলো মুখের শুষ্কভাব দূর করে। মুখকে রাখে রোগ জীবানুমুক্ত। অনেকের মুখ এমনিতেই শুষ্ক থাকে। শুষ্ক মুখে দ্রুত অণুজীব বড় হয়। তখন রোগ জীবাণু আক্রমণের জন্য মুখের অসুখ হয়। কথা বলার সময় গন্ধ ছড়ায়৷
৫. জিহ্বাতে ময়লা জমে দৃষ্টিকটু দেখায়। নানান রকম রোগজীবাণু আর খাদ্যকণাতে জিহ্বার বর্ণও পরিবর্তিত হয়। তখন জিহ্বার সাদাটে ভাব বোঝা যায়। যা দৃষ্টি কটু এবং সাথে গন্ধও ছড়ায়।
৬. টাকা বাঁচানোর জন্য মানহীন প্রসাধনী থেকেও মুখে গন্ধ হতে পারে। বাহির থেকে যা খুব বিশ্রী দেখায়। ঠিকমতো ঠোটের মেকাপ না উঠালে, প্রসাধনী জমে ঠোটের কোণাতে রোগ জীবানু বাসা বাঁধবে, এতে গন্ধ ছড়াবে।
৭. অতিরিক্ত তেল, চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার পরে দাঁতের কোণায় লেগে থাকতে পারে। সঠিকভাবে দাঁত পরিষ্কার না করলে, এই খাবার কণাগুলো লেগে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
৪. ব্রাশ ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে বা বছর যাবৎ এই ব্রাশ ব্যবহার করলেও মুখে রোগ-জীবাণু আক্রমণ করে দুর্গন্ধ হয়।
মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে করণীয়: ১. নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করতে হবে। তৈলাক্ত, চর্বি জাতীয় খাবার, মিষ্টি খাওয়ার পরে ভালো করে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। মাউথ ওয়াশ বা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে মাঝে মাঝে কুলি করলে মুখের রোগ জীবাণুগুলো মরে যাবে।
তখন দুর্গন্ধ হবে কম। নিয়মিত দাঁত ব্রাশের সাথে জিহ্বাও পরিষ্কার করতে হবে।
২. নিয়মিত প্রতিদিন দুই লিটার পানি পান করুন। শুধু কিডনীর জটিলতায় যারা ভুগছেন, তারা খেয়াল রাখুন যে, চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত পানি পান করা যাবে না। কারণ কিডনীর জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের কিডনীর অবস্থা বুঝে পানি পান করতে হয়।
৩. নিয়মিত ছয় মাস পর পর বা সম্ভব না হলে এক বছর পর পর দাঁতের স্কেলিং করান। এতে বাকা দাঁত যাদের, তারা আরো বেশি উপকৃত হবেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ডায়াবেটিক রোগীদের দেহের সব অঙ্গগুলো দূর্বল হয়ে যায়। তখন দাঁতের ক্যালসিয়াম কমে, দাঁতের গোড়াতে খুব সহজেই রোগ জীবাণু বাসা বাধে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৪. গর্ভাবস্থা, বড় কোন অপারেশনের পরে, বৃদ্ধ বয়সে বা মেনোপোজ হবার পরে দাঁতের প্রতি মনোযোগী হউন। তাহলে মুখের দুর্গন্ধ কমবে।
৫. ঠোটে প্রসাধনী ঠিকমত পরিষ্কার করবেন ঘুমাতে যাবার পূর্বে৷ পেটের কোন অসুখ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৬. মুখে বাঁধানো দাঁত থাকলে তার প্রতি যথেষ্ট মনোযোগী হউন।
৭. দাঁত বা মাড়ির কোন অসুখকে অবহেলা করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সাদা রং এর টুথপেষ্টে ফ্লুরাইড থাকে প্রচুর পরিমাণে। এই ধরনের টুথপেষ্ট দাঁতের জন্য বিশেষ উপযোগী।
৮. যেকোন ধনের মাদক দ্রব্য, ধূমপান, গুল পরিহার করুন।
দুর্গন্ধহীন মুখে ছড়াক সুন্দর নিঃশ্বাস। হয়ে উঠুন আরো বেশি ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন৷
লেখিকা: ডাঃ ফারহানা মোবিন
রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার, স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি বিদ্যা বিভাগ,
স্কয়ার হাসপাতাল, ঢাকা, বাংলাদেশ।