Latest News

রাজনীতি
জাতীয়

আন্তর্জাতিক

বিনোদন

খেলাধুলা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

সর্বশেষ

স্পেনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

এসবিএন ডেস্ক:  স্পেনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে।  ২১  ফেব্রুয়ারি  স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দূতাবাসে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে একুশের কর্মসূচি শুরু করেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার। পরে সকাল ১১টায় দূতাবাস মিলনায়তনে একুশের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দূতাবাসের  প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামের পরিচালনায়  অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতেই ৫২‘র ভাষা আন্দোলনে শহীদদের এবং চকবাজারে দূর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনানো হয়। একুশের আলোচনায় রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, একুশ কেবল শোক নয়। শক্তি এবং গৌরবেরও একটি দিন। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম মৌলিক বিষয় ছিল  একটি অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য। বাংলাদেশ সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় প্রবাসীদেরও শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনাসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, দ্বিতীয় সচিব তাহসিনা আফরিন শারমিন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেন এর সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেক, প্রাক্তন সভাপতি আল মামুন, সিনিয়র সহ সভাপতি আল আমিন মিয়া, প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল আলম মামুন, গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লুৎফুর রহমান, বাংলা স্কুল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, স্পেন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাহাদুল সুহেদ, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাইয়ূম সেলিম, আইনজীবি তারেক হোসেন, স্পেন ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসাইন রায়হানসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনাসভা শেষে একুশের তাৎপর্য নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র  প্রদর্শন করা হয়। সমস্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

বার্সেলোনায় একুশ উদযাপন কমিটির আহ্বায়কের উপর হামলা

মিরন নাজমুল:  বার্সেলোনায় বাংলাদেশী কমিউনিটির একুশ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কামরুল মোহাম্মদ দুবৃত্তকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন। আজ ১৮ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে আনুমানিক আড়াইটার দিকে বাংলাদেশীদের ১০/১২ জনের একটি দল একুশ উদযাপনের বিষয়ে হুমকিধামকি দিয়ে কলার ধরে টানাহেচড়া করে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এতে ডান হাত ভেঙ্গে যায় এবং শরীরে বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়ে আহত হন। পরে এম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতাল নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মোহাম্মদ কামরুল একুশ উদযাপনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত আলোচনা সভা করে রাতে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় ১০/১২ জনের বাংলাদেশী একটি দল তার পথ রোধ করে এবং তারা সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে। কামরুলকে চ্যালেঞ্জ করে এবং বলতে থাকে তারা এই একুশ উদযাপন পরিষদ মানে না। তিনি কেন উদযাপন পরিষদের সভা ডেকেছেন --সেই বিষয়ে কৈফিয়ত চান। এ সময় দুবৃত্তরা তার হাতে থাকা একুশ উদযাপন পরিষদের প্রস্তুতি সভার সিদ্ধান্ত ও সভার রেজুলেশন খাতা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরিস্থিতির প্রতিকূলতা বিবেচনা করে মোহাম্মদ কামরুল এই সময় তাদের দু'একজনকে জড়িয়ে ধরে এবং হাত জোড় করে তাকে অপদস্ত করা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি যে মস্তিষ্কের স্নায়ুগঠিত রোগে অসুস্থ জীবন যাপন করছেন সেটাও অবগত করেন। কিন্তু দুবৃত্তকারীরা তার প্রতি সহনশীল না হয়ে তার উপর চড়াও হয়ে তাকে আহত করে।
আজ সকালে এই ঘটনা জানাজানি হলে বার্সেলোনায় বাংলাদেশী কমিউটিতে এ হামলার প্রতিবাদে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকে ক্ষোভে ফেঁটে পড়ে হামলার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। মোহাম্মদ কামরুলের উপর এই হামলার প্রতিবাদে আজ সন্ধ্যায় কমিউনিটির সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বার্সেলোনায় প্রতিবাদ সভা ডাকা হয়েছে।
এ ব্যপারে কামরুল মোহাম্মদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারী বার্সেলোনার সকল সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সভায় আমাকে একুশে মেলা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক করা হয়েছে। আমি অসুস্থ্য শরীর নিয়ে একুশ উদযাপনের সিংহভাগ কাজ সম্পন্ন করেছি। স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেবার জন্য বার্সেলোনা পৌরসভার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মেইল করেছি এবং তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রস্তুতির ঠিক এই চূড়ান্ত পর্যায়ে আমি যেভাবে দুবৃত্তদের লাঞ্ছনার শিকার হয়েছি এতে আমি চরম হতাশ। তিনি আক্ষেপ ও কান্না জড়ানো কণ্ঠে বলেন, আমি চাইনি তারপরও সব সংগঠন জোর করে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে বলেই আমি দায়িত্ব নিয়েছি। কিন্তু এখন মনে হয়, ভালো কাজে এগিয়ে আসাটাই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি এই জটিল স্নায়ুরোগে অসুস্থ্য মানুষ হিসেবে তাদের দ্বারা যেভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে অপধস্ত হয়েছি। সেটা আমার জন্য মৃত্যুর কারণও হতে পারতো। আমার সেরকমই মনে হয়েছিল সে সময়।
উল্লেখ্য, কামরুল মোহাম্মদ বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একজন নিঃস্বার্থ সমাজসেবক বলে বহুল পরিচিত। এই হামলার যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্পেনে কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

এসবিএন ডেস্ক: জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেন এর আয়োজনে শিশু কিশোরদের কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি,  শনিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় মাদ্রিদে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের কার্যালয়ে এ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে ৭৯ জন  বাঙালি শিশু কিশোর অংশগ্রহণ করে।  পরে বিজয়ী শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেন এর সভাপতি কাজী এনায়েতুল করিম তারেক। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম তাহেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি আল আমিন মিয়া। অনুষ্ঠনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতি ইন স্পেন এর প্রধান উপদেষ্টা আবুল কালাম আজাদ, বৃহত্তর ঢাকা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেন এর সভাপতি সোহেল ভূঁইয়া,
গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেন এর সভাপতি লুৎফুর রহমান, বাংলা স্কুল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক একেএম জহিরুল ইসলাম, স্পেন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাহাদুল সুহেদ, কমিউনিটি নেতা আবুল কাসেম মুকুল, বরিশাল বিভাগীয় কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসনুন জুয়েল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেন এর কোষাধ্যক্ষ আবুল হাসেম মেম্বার, সহ কোষাধ্যক্ষ জালাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক আবু বাক্কার প্রমূখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক বাঙালি শিশু-কিশোর ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে কাজী এনায়েতুল করিম তারেক বলেন, বায়ান্ন‘র ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস যাতে আমাদের নবপ্রজন্ম জানতে পারে, সেজন্যই আমাদের এ আয়োজন। প্রবাসে বাঙালি শিশু- কিশোররা যাতে বাংলা ভাষা চর্চা করে, সেজন্য অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরো বলেন, আমাদের বাংলা ভাষা, ইতিহাস ঐতিহ্য চর্চা করে যাতে আমাদের নব প্রজন্ম বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য অচিরেই মাদ্রিদে বাংলা স্কুল এর কার্যক্রম শুরু হবে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেন এর মহিলা ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদিকা কাজী সোহেলী শারমিন ও সহ মহিলা ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদিকা শামীমা আক্তারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ৪-৬ বছরের শিশু-কিশোরদের বিভাগ থেকে ১ম, ২য় ও ৩য় পুরস্কার পায় যথাক্রমে মৃদুলা, ইলমা ও সিমা। ৭-৯ বছরের শিশু কিশোরদের বিভাগ থেকে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে আলফি, মাশরুর ও নীরব এবং ১০-১২ বছরের শিশু-কিশোরদের বিভাগ থেকে ১ম, ২য় ও ৩য় পুরস্কার পায় যথাক্রমে ইউসরা, মাহির ও আদিবা। এ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ভাষা শহীদদের ছবি এঁকে বিশেষ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয় তারেক। এছাড়াও সকল অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় স্থানীয় বাঙালি শিশু কিশোররা অংশগ্রহণ করে তাদের রঙ তুলি আর পেন্সিলে বায়ান্ন‘র ভাষা আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে।

মুক্তমত

যোগাযোগ

Editor:Sahadul Suhed, News Editor:Loukman Hossain E-mail: news.spainbangla@gmail.com